দিকশূন্যপূরের আমি ?
রুমা মোদক
আমরা
বাঙালি । আমরা গাধার দল। ঠিক যেমন ৫ই ফেব্রুয়ারীতে ছুটে গেছিলাম শাহবাগে
ঠিক তেমনি আরও ৪২ বছর আগে আমাদেরই চাচা মামারা ছুটে গিয়েছিলেন যুদ্ধে। একই
ভাবে। একই রকম মানসিকতা থেকে। উনাদের এই আত্মত্যাগের ফল কি হল তা আমরা
দেখতেই পাচ্ছি। কালকেই এই ইস্যু আমরা ভুলে যাব। আমাদের মত বেহায়া, গন্ডারের
চামড়া ওয়ালা জাত খুব কমই আছে। হতেই পারে। বৃটিশদের জুতা পোঁছা জাত আমরা।
২০০ বছর লেগেছে সেই তলা থেকে উঠতে। দিন গেছে, আমাদের সহ্যশক্তিও বেড়েছে। এই
দফা মাথা তুলে দাঁড়াতে ৪০০ বছরও লেগে যেতে পারে। ছুপা বেঈমানের চেয়ে
ডাইরেক্ট বেঈমান ভালো। ডাইরেক্ট বেঈমানের একটা নীতি আছে- সে পেছন থেকে ছুরি
মেরে মাটিতে ফেলে পাড়াবে। ছুপা বেঈমান পেছন থেকে ছুরি মারতে মারতেও বলবে
ওহ গড ওহ গড এ আমি কি করছি? শিট! হাত ফসকে গেল। ডাক্তার! এ্যাম্বুলেন্স!
জড়িয়ে ধরতে গিয়ে ক্ষতস্থানে চিপ দিয়ে শরীরের বাকী রক্তগুলিও ফেলে দিবে।
আমাদের চারপাশে সব ছুপা রাজাকার। কারণ রাজাকারিটা খুব লাভজনক ছিল। মানুষের
সম্পদ দখল, এর মাথা মাড়িয়ে অনৈতিকভাবে এগিয়ে যাওয়া, ডিগ্রী পাওয়া সব কিছু
সম্ভব। আমরা কিছু বেকুব আজও মনের মাঝে দেশপ্রেম নিয়ে বেঁচে আছি যাদের
পরিণতি মানুষের হাসি ঠাট্টা, শিবিরের পোঁচানো, সরকারের গ্রেফতারী পরোয়ানার
আতঙ্ক নিয়ে বাস করা। সব জায়গায় আমরা পিছিয়ে। কারণ আমরা রাজাকারি করিনি।
আজকে সেই পথে হাঁটলে দুঃখ পেতে হতনা। আজকের দিনটা হতে পারত অলস ডেটিং এর
দিবস। কিংবা ফুল ভল্যিউমে গান শোনার একাকী দুপুর। অথচ আজকে আমরা পরাজিত,
দুঃখিত মনে বাসায় বসে আছি। কেউবা শাহবাগে। আমাদের আসলেই কি করার আছে?
অন্যায় খুনের সাজা হয়না। আমাদের সাজা হবে। আমরা যা করব তাতেই পৃথিবীর সকল
বিধিমালা উড়ে আসবে আমাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেবার জন্য। কারণ এই দেশটা মগের
মুল্লুক। এই দেশটা ভরে গেছে বেঈমানে। লক্ষ শহীদ থেকে শুরু করে একজন দুজন
করে অনেকে প্রাণ দিয়েছে। কিছু লাভ হয়নি। হবেও না। সময় এসেছে নিজের আখের
গোছানোর। ভুলে যাবো এই দেশ আমার। হ্যাঁ, আমি পরাজিত। গর্তেই আমার বাস অথবা
দেশের মাটিতে বেঈমান হয়ে বুক ফুলিয়ে বাঁচাই উপায়। অথবা দেশান্তরী। যে যেটা
বেছে নেবে ।

No comments:
Post a Comment